রুম্পা বিদ্রোহদক্ষিণ ভারতের গোদাবরী অঞ্চলের রুম্পা আদিবাসীদের সশস্ত্র বিদ্রোহ(১৮৭৮-১৮৮০)উনবিংশ শতকের সপ্তম দশকে মাদ্রাজ প্রদেশ জুড়ে প্রবল দুর্ভিক্ষে ৫০ লক্ষ মানুষ প্রান হারান। ১৮৭৬ এর ২৩ শে নভেম্বর অমৃত বাজার পত্রিকা এই দুর্ভিক্ষের কারণ হিসেবে বৃটিশ শাসকের শোষন, উদাসীনতাকে দায়ী করেছিল। জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতাবাসীর কাছে দুর্ভিক্ষপীড়িতমানুষদের সাহায্যার্থে অর্থদানের আবেদন করলেও বিশেষ সাড়া পাওয়া যায়নি। এই ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের ভেতরেই উপুর্যপরি শোষন, বনাঞ্চল সংক্রান্ত বাধানিষেধ ও করের বোঝা দক্ষিণ ভারতে পর্বত-অরন্যচারীরুম্পা আদিবাসীদের ভেতর তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়।রুম্পা সম্প্রদায় ছিল গোষ্ঠীমূলক। সমাজে সব কাজই একত্রিত সিদ্ধান্তে হতো। সুতরাং সকলেই মিলিতভাবে বিদ্রোহের সিদ্ধান্ত নেয়। এদের প্রধান নেতা ছিলেন চান্দ্রিয়া। লিংগম রেড্ডি, থুমন ধোরা প্রমুখ অন্যান্য নেতারাও বিদ্রোহ পরিচালনা করেন। তারা থানা আক্রমন, অগ্নিসংযোগ, সরকারী কর্মচারীদের হত্যা ও ভদ্রাচলম, বিশাখাপত্তনম তথা পূর্ব গোদাবরী অঞ্চলে নিজেদের অধিকার কায়েম করলে সশস্ত্র পুলিশবাহিনীর সাথে খন্ডযুদ্ধ হয়, উন্নত আগ্নেয়াস্ত্র ও সুশিক্ষিত সেনার সাথে সাধারণ তীর ধনুক নিয়ে পাহাড়-জংগলে লুকিয়ে থেকে বিদ্রোহীরা লড়াই চালান।বিদ্রোহ দমনে গোদাবরী জেলার ম্যাজিস্ট্রেট রুম্পাদের গ্রামগুলি আগুনে পুড়িয়ে দেন। বহু নিরীহ গ্রামবাসী ও বিদ্রোহী নিহত হয়। ১৮৮৯ এর জানুয়ারি মাসে এক খন্ডযুদ্ধে নেতা চান্দ্রিয়ার মৃত্যু হয়। অমৃতবাজার পত্রিকার মাদ্রাজ সংবাদদাতা জানান চান্দ্রিয়ার ছিন্নমুন্ড ব্রিটিশ পুলিশ রাজমুন্দ্রিজেলে নিয়ে আসে শনাক্তকরনের জন্যে। শেষে যোগ্য পরিচালনার অভাবে রুম্পা বিদ্রোহ স্তিমিত হয়ে পড়ে। বহু বিদ্রোহীর দ্বীপান্তর হয়েছিল।
Good
ReplyDelete